সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, দু’জনই বদলি! ৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি আমন চাষে খরচের বোঝা, লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক চিকিৎসক সংকটে নাজুক সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা, ৩৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১১২ জন সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমা ও প্রসদসামগ্রী কিনতে ব্যস্ত ভক্তরা জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শীতের সবজির নতুন চালানে কাঁচাবাজারে স্বস্তি, তবে অসন্তোষ শিম-টমেটোর দামে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, মুনাফায় কারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই : তথ্যমন্ত্রী জাউয়াবাজারে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার শাল্লায় ফেসবুকে চিরকুট লিখে যুবকের মৃত্যু ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের দিল্লিতে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি : গোলাম পরওয়ার দিরাইয়ে সাংবাদিক হত্যাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

নতুন ব্রি ধান-১১৮ : দুই মাস আগেই ঘরে উঠবে বোরো, কমবে ঝুঁকি

  • আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:৩৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:৩৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
নতুন ব্রি ধান-১১৮ : দুই মাস আগেই ঘরে উঠবে বোরো, কমবে ঝুঁকি
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, অকাল বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বোরো ধানহানির শঙ্কা দূর করতে নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। গবেষকদের উদ্ভাবিত নতুন উচ্চফলনশীল জাত ব্রি ধান-১১৮ প্রচলিত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই মাস আগেই রোপণ ও আগাম ঘরে তোলা সম্ভব হবে। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের লাখো কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। চলতি বছরও মাত্র ৯ দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ দেশের সাত জেলার হাওরাঞ্চলে ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, যেখানে ধানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা। এছাড়া নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১১৮ হাওরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানান, এই জাতের ধান কার্তিক মাসে, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে রোপণ করা যাবে। শীতসহনশীল হওয়ায় ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফসল কাটা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বছরের পর বছর অকাল বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। নতুন জাতের এই ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা কৃষকদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, ব্রি ধান-১১৮ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুম থেকেই কৃষকরা এই বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ মনে করেন, হাওরাঞ্চলের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। তিনি বলেন, বর্ষার আগেই ধান ঘরে তোলা গেলে কৃষকদের আর ফসল হারানোর শঙ্কায় থাকতে হবে না। দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে এই জাত। হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাসও উদ্বেগজনক। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছিল। ২০২২ সালেও ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আর চলতি বছর ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। এমন বাস্তবতায় আগাম ফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি ধানের নতুন জাতকে হাওরবাসীর জন্য ‘স্বপ্নের ধান’ হিসেবে দেখছেন কৃষিবিদরা। কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশা, মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বিস্তার ঘটানো গেলে ব্রি ধান-১১৮ শুধু হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ফসল রক্ষাই করবে না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার